মূল লেখায় যান
Network

IPv6 কী, আর ইন্টারনেটের ঠিকানা ফুরিয়ে যাওয়ার পর কী বদলাল

IPv6 কী — এক কথায়, ইন্টারনেটের নতুন ঠিকানা ব্যবস্থা। পুরোনো IPv4-এর ঠিকানা এশিয়ায় ফুরিয়েছে ২০১১ সালেই, আর তার ফল আপনি প্রতিদিন টের পাচ্ছেন।

SN SaltSync Network Desk ১০ মিনিট পড়া #IPv6 #IPv4

ঠিকানা ফুরিয়ে গেলে কী হয়, আর নতুন ব্যবস্থাটা আসলে কী বদলায়।

ইন্টারনেটে যুক্ত প্রতিটি ডিভাইসের একটা ঠিকানা লাগে — না হলে অন্য প্রান্ত জানবে না ডেটা কোথায় পাঠাতে হবে। এই ঠিকানাই IP অ্যাড্রেস।

সমস্যা হলো, পুরোনো ব্যবস্থা IPv4-এ ঠিকানার সংখ্যা সীমিত ছিল — সব মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ কোটি। আশির দশকে সংখ্যাটা অকল্পনীয় রকম বড় মনে হয়েছিল। আজ একটা বাসাতেই দশ-বারোটা ডিভাইস অনলাইনে থাকে।

ঠিকানা ফুরিয়ে গেছে অনেক আগেই — এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে ২০১১ সালেই। তারপর থেকে ISP-রা নানা কৌশলে চালিয়ে নিচ্ছে, আর তার ছোটখাটো অসুবিধাগুলো আপনি প্রতিদিন টের পান, শুধু কারণটা জানেন না।

IPv6 হলো সেই সমস্যার আসল সমাধান — ঠিকানার নতুন ব্যবস্থা, যাতে সংখ্যা কার্যত ফুরাবেই না। এই লেখায় দেখব সেটা কী, কী বদলায়, আর আপনার নিজের লাইনে চালু আছে কি না।

IPv4-এর ঠিকানা আসলে কীভাবে ফুরাল

IPv4 ঠিকানা লেখা হয় ৩২ বিটে — তাই সম্ভাব্য সংখ্যা ২³², অর্থাৎ ৪২৯ কোটি ৪৯ লাখের কিছু বেশি। এর মধ্যেও একটা বড় অংশ আলাদা করে রাখা, কাজে লাগানো যায় না।

১৯৮১ সালে যখন এই ব্যবস্থা দাঁড় করানো হয়, তখন ইন্টারনেট ছিল কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আর গবেষণাগারের নেটওয়ার্ক। ব্যক্তিগত কম্পিউটার তখনো ঘরে ঘরে পৌঁছায়নি, স্মার্টফোন তো দূরের কথা।

এরপর যা হলো সেটা কেউ হিসাবে রাখেনি — প্রতিটি মানুষের হাতে একাধিক ডিভাইস, প্রতিটি বাসায় রাউটার, প্রতিটি অফিসে ক্যামেরা, আর এখন ঘরের বাতি-টিভি-ফ্রিজ পর্যন্ত অনলাইনে। এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের ঠিকানা বিতরণকারী সংস্থা APNIC-এর হাতে ২০১১ সালের এপ্রিলে শেষ ব্লকটুকু চলে আসে, আর সেখানেই স্বাভাবিক বিতরণ থেমে যায়।

এখন IPv4 ঠিকানা কেনাবেচা হয়, ভাড়া দেওয়া হয়, আর দাম বছর বছর বাড়ে। নতুন একটি ISP চালু করতে গেলে ঠিকানার খরচ এখন বড় একটা হিসাব — এটাই বাজারের বাস্তবতা।

কীভাবে এখানে এসে পৌঁছাল

  1. ১৯৮১

    IPv4 চালু

    ৩২ বিটের ঠিকানা ব্যবস্থা দাঁড়ায়। মোট সম্ভাব্য ঠিকানা প্রায় ৪৩০ কোটি — তখনকার হিসাবে যা অসীমের মতোই মনে হয়েছিল।

  2. ১৯৯৮

    IPv6-এর নকশা চূড়ান্ত

    ঠিকানা ফুরাবে — এটা বুঝে নব্বইয়ের দশকেই ১২৮ বিটের নতুন ব্যবস্থার নকশা করা হয়। কিন্তু তখনো চাপ তৈরি হয়নি বলে কেউ তাড়াহুড়ো করেনি।

  3. ২০১১

    এশিয়ায় ঠিকানা শেষ

    APNIC-এর স্বাভাবিক বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়। এই অঞ্চলের ISP-রা তখন থেকেই NAT আর CGNAT-এর উপর ভরসা করতে শুরু করে।

  4. ২০১২

    World IPv6 Launch

    বড় ওয়েবসাইট আর ISP-রা একযোগে IPv6 চালু করে রাখে — সেদিন থেকে সেটি আর পরীক্ষামূলক থাকেনি।

  5. ২০২৬

    অর্ধেক ট্রাফিক IPv6-এ

    Google-এর নিজস্ব হিসাবে এপ্রিল ২০২৬-এ প্রথমবার তাদের সেবায় আসা বিশ্বব্যাপী ট্রাফিকের অর্ধেক IPv6 দিয়ে আসে। দেশে দেশে হার অবশ্য খুব অসমান।

CGNAT — ঠিকানা ফুরানোর ফল আপনি যেভাবে টের পান

ঠিকানা কম পড়ায় ISP-রা একটা কৌশল নিয়েছে: একটি সত্যিকারের পাবলিক IPv4 ঠিকানার পেছনে অনেক গ্রাহককে একসাথে বসিয়ে দেওয়া। একে বলে CGNAT (Carrier-Grade NAT)। বাংলাদেশে ঘরোয়া সংযোগের বড় অংশই এভাবে চলে।

ব্রাউজিং, ভিডিও, ফেসবুক — সব ঠিকঠাক চলে, তাই বেশিরভাগ মানুষ টেরও পান না। সমস্যা বাধে তখনই, যখন বাইরে থেকে কেউ আপনার দিকে আসতে চায়। আপনার আলাদা ঠিকানা নেই বলে বাইরের কেউ আপনাকে খুঁজে পাবে না।

১

CCTV আর NVR

দোকান বা বাসার ক্যামেরা বাইরে থেকে দেখা যায় না। পোর্ট ফরওয়ার্ড করেও লাভ হয় না, কারণ পোর্টটা আপনার হাতে নেই।

সাধারণ উপসর্গ লোকাল Wi-Fi-তে চলে, মোবাইল ডেটায় চলে না
চলতি সমাধান P2P বা ক্লাউড অ্যাপ, নয়তো আলাদা পাবলিক IP
২

গেমিং

কনসোল বা গেম দেখায় NAT Type Strict। ম্যাচমেকিংয়ে সময় লাগে, ভয়েস চ্যাট কাটে, হোস্ট হওয়া যায় না।

সাধারণ উপসর্গ Strict / Type 3 NAT
IPv6 থাকলে অনেক গেমে সরাসরি Open হয়ে যায়
৩

নিজের সার্ভার

ঘরে NAS, হোম অটোমেশন বা ছোট সার্ভার রেখে বাইরে থেকে ঢোকা যায় না। রিমোট ডেস্কটপ, VPN সার্ভার — সবই আটকে যায়।

সাধারণ উপসর্গ পোর্ট ফরওয়ার্ড করেও বাইরে থেকে সাড়া নেই
চলতি সমাধান টানেল সার্ভিস, নয়তো পাবলিক IP কেনা

IPv6 কী আর IPv4-এর সাথে পার্থক্য কোথায়

IPv6 একই কাজ করে — ডিভাইসকে ঠিকানা দেয় — কিন্তু ঠিকানাটা লেখা হয় ৩২ বিটের বদলে ১২৮ বিটে। বিট চারগুণ বাড়লে সম্ভাব্য সংখ্যা চারগুণ বাড়ে না, বাড়ে অকল্পনীয় হারে।

সংখ্যাটা কত বড় সেটা বোঝানো কঠিন, তাই একটা তুলনা: প্রতিটি গ্রাহককে যে আকারের ব্লক দেওয়া হয় (একটি /64), তাতেই গোটা IPv4 ইন্টারনেটের চেয়ে কোটি গুণ বেশি ঠিকানা থাকে। ঠিকানা বাঁচানোর চিন্তাটাই এখানে অবান্তর।

লেখার ধরনও আলাদা। IPv4-এ চারটি সংখ্যা আর ডট, IPv6-এ আটটি খণ্ড, হেক্সাডেসিমেলে, কোলন দিয়ে আলাদা করা। প্রথম দেখায় দুর্বোধ্য লাগে, কিন্তু নিয়ম মাত্র দুটো।

ঠিকানা লেখার নিয়ম
পুরো লেখা   2001:0db8:0000:0000:0000:ff00:0042:8329

নিয়ম ১     প্রতিটি খণ্ডের শুরুর শূন্যগুলো বাদ দেওয়া যায়
            2001:db8:0:0:0:ff00:42:8329

নিয়ম ২      টানা শূন্যের খণ্ডগুলো একবারই :: দিয়ে ছোট করা যায়
            2001:db8::ff00:42:8329

আরও কিছু    ::1              লুপব্যাক (IPv4-এর 127.0.0.1)
            fe80::/10        লিংক-লোকাল, শুধু নিজের নেটওয়ার্কে
            2001:db8::/32    ডকুমেন্টেশনের জন্য সংরক্ষিত

এক নজরে IPv4 আর IPv6

ঠিকানার দৈর্ঘ্য
IPv4 — ৩২ বিট · IPv6 — ১২৮ বিট
লেখার ধরন
IPv4 — 203.0.113.10 · IPv6 — 2001:db8::1
মোট ঠিকানা
IPv4 — প্রায় ৪৩০ কোটি · IPv6 — ২¹²⁸
গ্রাহকপ্রতি বরাদ্দ
IPv4 — একটি, প্রায়ই ভাগ করা · IPv6 — সাধারণত একটি /64 বা /56 ব্লক
NAT লাগে কি না
IPv4 — প্রায় সবসময় · IPv6 — লাগে না
ঠিকানা পাওয়ার পদ্ধতি
IPv4 — DHCP · IPv6 — SLAAC বা DHCPv6, দুটোই চলে
DNS রেকর্ড
IPv4 — A রেকর্ড · IPv6 — AAAA রেকর্ড

IPv6 এলে বাস্তবে কী বদলায়

  • সরাসরি সংযোগ ফিরে আসে: প্রতিটি ডিভাইস নিজের ঠিকানা পায়, তাই CGNAT-এর কারণে যা আটকে ছিল — ক্যামেরা, NAS, রিমোট ডেস্কটপ, গেমের Open NAT — সেগুলো আবার কাজ করে।
  • ঠিকানা বসানো সহজ: SLAAC-এর কারণে ডিভাইস নিজেই ঠিকানা তৈরি করে নিতে পারে। বড় নেটওয়ার্কে DHCP সার্ভারের উপর নির্ভরতা কমে।
  • রাউটিং পরিষ্কার হয়: ঠিকানার কাঠামো সাজানো বলে বড় নেটওয়ার্কে রুট টেবিল ছোট থাকে, আর ISP পর্যায়ে NAT-এর জটিল স্তরগুলো সরে যায়।
  • ভবিষ্যতের জন্য জায়গা থাকে: IoT, স্মার্ট মিটার, সেন্সর — প্রতিটির আলাদা ঠিকানা লাগে। IPv4-এ এই সংখ্যা সামলানোর কোনো পথ নেই।

আপনার লাইনে IPv6 আছে কি না দেখবেন যেভাবে

তিন ধাপে যাচাই

  1. ১

    ব্রাউজারে টেস্ট চালান IPv6

    ip6.bd খুলুন। পাতার IPv6 অংশে যদি 2xxx: দিয়ে শুরু হওয়া একটা ঠিকানা দেখায়, তাহলে আপনার লাইনে IPv6 চালু আছে। “Not detected” বা ফাঁকা দেখালে নেই।

    একই পাতায় ISP আর ASN-ও দেখা যায় — সংযোগটা আসলে কার নেটওয়ার্ক দিয়ে আসছে, সেটাও মিলিয়ে নিতে পারেন।

    ip6.bd
  2. ২

    IPv4 ঠিকানাটাও দেখে নিন

    একই পাতায় দেখানো IPv4 ঠিকানার সাথে রাউটারের WAN পাতায় লেখা ঠিকানা মেলান। আলাদা হলে আপনি CGNAT-এর পেছনে — অর্থাৎ আপনার নিজস্ব পাবলিক IPv4 নেই।

    মিলে গেলে
    নিজস্ব পাবলিক IPv4 আছে
    না মিললে
    CGNAT-এর পেছনে আছেন
  3. ৩

    রাউটারে সেটিংস দেখুন

    রাউটারের অ্যাডমিন প্যানেলে Network → IPv6 বা Advanced → IPv6 অংশে যান। সেখানে IPv6 সুইচটি চালু আছে কি না, আর WAN-এর ধরন DHCPv6 বা PPPoE ঠিক আছে কি না দেখে নিন।

    ISP IPv6 দিলেও রাউটারে সেটি বন্ধ থাকলে ডিভাইস পর্যন্ত পৌঁছায় না — বাস্তবে এটাই সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

    DHCPv6 Prefix Delegation

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

IPv6 চালু হলে কি IPv4 বন্ধ হয়ে যাবে?

না, অনেক বছর দুটোই পাশাপাশি চলবে। একে বলে dual stack — ডিভাইস দুটো ঠিকানাই রাখে আর যেটা কাজ করে সেটা ব্যবহার করে। IPv4 বন্ধ হওয়ার কোনো নির্ধারিত তারিখ নেই।

IPv6 চালু করলে কি ইন্টারনেট দ্রুত হবে?

গতি বাড়বে না। গতি ঠিক করে প্যাকেজের ব্যান্ডউইথ আর ঘরের সেটআপ। তবে CGNAT-এর অতিরিক্ত স্তর সরে যাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সংযোগ একটু বেশি স্থিতিশীল লাগতে পারে, আর গেমে NAT সমস্যা কমে।

IPv5 কোথায় গেল?

৫ নম্বরটি আগেই একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোকলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে গিয়েছিল, তাই নতুন সংস্করণের নাম হয় IPv6। কোনো রহস্য নেই।

IPv6 থাকলে কি আমার ডিভাইস অরক্ষিত হয়ে পড়ে?

প্রতিটি ডিভাইসের আলাদা ঠিকানা থাকায় তাত্ত্বিকভাবে বাইরে থেকে পৌঁছানো সম্ভব — তাই রাউটারের ফায়ারওয়াল চালু রাখা জরুরি। ঘরোয়া রাউটারে এটি সাধারণত ডিফল্টেই চালু থাকে, বাইরে থেকে আসা সংযোগ আটকে দেয়।

আমার পুরোনো ডিভাইসগুলোর কী হবে?

সেগুলো IPv4-এই চলতে থাকবে, কিছু বন্ধ হবে না। dual stack নেটওয়ার্কে নতুন ডিভাইস IPv6 ব্যবহার করবে আর পুরোনোগুলো IPv4 — দুটো একসাথে চলতে কোনো অসুবিধা নেই।

IPv6 ঠিকানা কি বদলায়, নাকি স্থায়ী?

বেশিরভাগ ঘরোয়া সংযোগে ISP-র দেওয়া প্রিফিক্স সময়ে সময়ে বদলাতে পারে। এছাড়া গোপনীয়তার জন্য ডিভাইস নিজে থেকেই অস্থায়ী ঠিকানা তৈরি করে বাইরে যোগাযোগে সেটি ব্যবহার করে — এটিই স্বাভাবিক আচরণ।

৪৩০ কোটি
IPv4-এ মোট ঠিকানা — পুরো দুনিয়ার জন্য
২¹²⁸
IPv6-এ ঠিকানার সংখ্যা — কার্যত অফুরান
৫০%
Google-এ আসা বিশ্বব্যাপী ট্রাফিকের যতটা এখন IPv6-এ (এপ্রিল ২০২৬)

টেস্টে IPv6 দেখাচ্ছে না, অথচ শুনেছি আমার ISP দেয়

প্রথমে রাউটারের IPv6 সুইচ চালু আছে কি না দেখুন, তারপর একবার রিবুট দিন। তাতেও না এলে আপনার ইন্টারনেট সরবরাহকারীর সাপোর্ট টিমকে জিজ্ঞেস করুন আপনার সংযোগে IPv6 বরাদ্দ (prefix delegation) চালু আছে কি না — অনেক জায়গায় এটি গ্রাহকভেদে আলাদা করে চালু করতে হয়।

রাউটারে IPv6 অপশনই নেই

পুরোনো কিছু মডেলে, বিশেষ করে ISP-র দেওয়া সাধারণ ONU বা এন্ট্রি-লেভেল রাউটারে, IPv6 সমর্থন থাকে না বা ফার্মওয়্যারে লুকানো থাকে। আগে ফার্মওয়্যার আপডেট করে দেখুন; না হলে নতুন রাউটার ছাড়া উপায় নেই।

কম্পিউটারে IPv6 আসে, ফোনে আসে না (বা উল্টো)

Windows-এ অনেক সময় নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টারের প্রোপার্টিজে IPv6-এর টিক তুলে দেওয়া থাকে — সেটি আবার চালু করুন। ফোনে APN বা Wi-Fi সেটিংসে IP ভার্সন IPv4/IPv6 করা আছে কি না দেখুন।

IPv6 চালুর পর কিছু সাইট ধীর বা খুলছে না

সাধারণত DNS-এর সমস্যা — AAAA রেকর্ড আছে কিন্তু পথটা কাজ করছে না। রাউটারে DNS বদলে দেখুন, আর সমস্যা থাকলে সাপোর্ট টিমকে জানান। সাময়িকভাবে ডিভাইসে IPv6 বন্ধ রাখলে কাজ চলে, তবে সেটি সমাধান নয়।

SN

SaltSync Network Desk

Network Operations · Khulna

খুলনাভিত্তিক ফাইবার ইন্টারনেট সেবাদাতা সল্টসিংকের অফিসিয়াল টেক ব্লগ। রাউটার, নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট নিয়ে আপনার প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানান।

আরও পড়ুন