মূল লেখায় যান
Internet

Mbps আর MBps: স্পিড টেস্টের সংখ্যা আসলে কী বোঝায়

স্পিড টেস্টে 500 Mbps, অথচ ডাউনলোডে 61 MB/s — Mbps আর MBps আসলে একই গতির দুই একক, পার্থক্যটা শুধু ৮ দিয়ে ভাগের।

SN SaltSync Network Desk ৮ মিনিট পড়া #ইন্টারনেট স্পিড #স্পিড টেস্ট
রেফারেন্স

৮ দিয়ে ভাগ করলেই আসল ডাউনলোড গতি — একই গতি, শুধু মাপার একক আলাদা।

স্পিড টেস্টে সংখ্যা উঠল 500 Mbps। খুশি মনে একটা বড় ফাইল ডাউনলোডে দিলেন, আর ব্রাউজার দেখাল 61 MB/s। সাথে সাথেই মনে হয় — এত কম কেন, প্যাকেজের সংখ্যাটা কি তবে বাড়িয়ে বলা?

আসলে দুটো সংখ্যাই ঠিক, আর দুটোই একই গতির কথা বলছে। পার্থক্য শুধু মাপার এককে — একটা মাপছে বিট-এ, অন্যটা বাইট-এ। ৫০০-কে ৮ দিয়ে ভাগ করলে হয় ৬২.৫; পাওয়া গেল ৬১। এই সামান্য ঘাটতিটুকুও কেন হয়, সেটাও নিচে বলা আছে।

এই লেখায় দেখব হিসাবটা কীভাবে মেলাবেন, স্পিড টেস্ট Mbps-এ দেখায় কেন, আর প্যাকেজের পুরো গতি বাস্তবে না পাওয়ার আসল কারণগুলো কী।

Mbps আর MBps: পার্থক্য শুধু ছোট b আর বড় B-তে

ইন্টারনেটের গতি মাপা হয় বিট দিয়ে, আর ফাইলের আকার মাপা হয় বাইট দিয়ে। ৮টি বিট মিলে হয় ১ বাইট — কম্পিউটারের এই হিসাবটা কখনো বদলায় না।

লেখার সময় পার্থক্যটা ধরা পড়ে মাত্র একটি অক্ষরে। Mbps-এ ছোট হাতের b, মানে bit। MBps বা MB/s-এ বড় হাতের B, মানে byte। এই একটি অক্ষরেই সংখ্যাটা ৮ গুণ বদলে যায়।

ব্যাপারটা অনেকটা টাকা আর পয়সার মতো — একই অঙ্ক পয়সায় লিখলে সংখ্যাটা অনেক বড় দেখায়, অথচ টাকার পরিমাণ একই থাকে। এখানে গুণকটা ১০০ নয়, ৮।

এক নজরে দুই একক

মনে রাখার মতো
Mbps
মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড — ছোট b
MBps বা MB/s
মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড — বড় B
১ বাইট (byte)
৮ বিট (bit)
Mbps থেকে MB/s
৮ দিয়ে ভাগ করুন
MB/s থেকে Mbps
৮ দিয়ে গুণ করুন
Mbps যেখানে লেখা থাকে
প্যাকেজ, স্পিড টেস্টের পাতা, রাউটারের বাক্স
MB/s যেখানে লেখা থাকে
ব্রাউজারের ডাউনলোড তালিকা, IDM, টরেন্ট, Steam

নিজের লাইনের হিসাব মেলাবেন যেভাবে

তিন ধাপে

  1. স্পিড টেস্ট চালান

    ব্রাউজারে ip6.bd খুলুন আর টেস্ট শেষ হতে দিন। ডাউনলোড ঘরে যে সংখ্যাটি আসবে, সেটি Mbps-এ — মেগাবিটে।

    ip6.bd
  2. সংখ্যাটিকে ৮ দিয়ে ভাগ করুন

    ধরুন টেস্টে এল 480 Mbps। ৮ দিয়ে ভাগ করলে হয় 60 MB/s। এটাই আপনার লাইনের সর্বোচ্চ ডাউনলোড গতি — এর বেশি কোনোভাবেই আসবে না।

    টেস্টে
    480 Mbps
    ভাগফল
    60 MB/s
  3. ডাউনলোডের সংখ্যার সাথে মেলান

    এবার বড় একটি ফাইল নামিয়ে ব্রাউজার বা ডাউনলোড ম্যানেজারের সংখ্যাটি দেখুন। ভাগফলের কাছাকাছি হলে বুঝবেন লাইন ঠিকঠাক কাজ করছে। অনেক কম হলে নিচের অংশটি পড়ুন।

কত Mbps মানে কত MB/s

10 Mbps
1.25 MB/s · ১ GB নামতে প্রায় ১৩ মিনিট
20 Mbps
2.5 MB/s · ১ GB নামতে প্রায় ৭ মিনিট
50 Mbps
6.25 MB/s · ১ GB নামতে প্রায় ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
100 Mbps
12.5 MB/s · ১ GB নামতে প্রায় ১ মিনিট ২০ সেকেন্ড
200 Mbps
25 MB/s · ১ GB নামতে প্রায় ৪০ সেকেন্ড
500 Mbps
62.5 MB/s · ১ GB নামতে প্রায় ১৬ সেকেন্ড
1000 Mbps
125 MB/s · ১ GB নামতে প্রায় ৮ সেকেন্ড

স্পিড টেস্ট Mbps-এ দেখায় কেন

প্রশ্নটা যুক্তিসংগত — মানুষ তো ডাউনলোড দেখে MB/s-এ, তাহলে টেস্ট Mbps দেখায় কেন?

কারণ নেটওয়ার্কের জগতে সব কিছুর মাপ বিট-এ। ফাইবার লাইন, রাউটারের পোর্ট, ওয়াই-ফাই স্ট্যান্ডার্ড, সুইচ — সবার স্পেসিফিকেশনে লেখা থাকে Mbps বা Gbps। টেলিফোন লাইনের যুগ থেকেই ডেটার হিসাব এভাবে হয়ে আসছে, আর দুনিয়ার সব ISP একই এককে প্যাকেজ বলে বলেই দুটো প্যাকেজ পাশাপাশি তুলনা করা যায়।

এখানেই বেশিরভাগ বিভ্রান্তি তৈরি হয়, কারণ দুটোই ঘটে একই ব্রাউজারে। স্পিড টেস্টের পাতা লাইনের ক্ষমতা মাপে, তাই সে বলে বিটে — Mbps। আর ব্রাউজারের ডাউনলোড তালিকা ফাইল কতটা নামল সেটা দেখায়, তাই সে বলে বাইটে — MB/s। জায়গা এক, কিন্তু একক দুটো আলাদা।

উল্টোদিকে স্টোরেজের জগতের সব কিছু বাইট-এ — ফাইলের আকার, মেমোরি কার্ড, হার্ডডিস্ক। ডাউনলোড ম্যানেজার কাজ করে ফাইলের আকার নিয়ে, তাই সে বাইটেই বলে।

তবে একটা কথা সত্যি: বড় সংখ্যা বিজ্ঞাপনে ভালো দেখায়, আর সেটা কারও অজানা নয়। তাই এককটা চিনে রাখাই আসল সুরক্ষা — ৮ দিয়ে ভাগ করতে জানলে কোনো সংখ্যাই আর অতিরঞ্জিত মনে হবে না।

তাহলে পুরো গতি বাস্তবে পাই না কেন

৮ দিয়ে ভাগ করে যে সংখ্যাটি পান, সেটি সর্বোচ্চ সীমা — নিশ্চয়তা নয়। ডেটা আপনার ডিভাইস পর্যন্ত আসতে কয়েকটি ধাপ পেরোয়, আর যে ধাপটি সবচেয়ে সরু, গতি ঠিক সেখানেই আটকে যায়।

সবচেয়ে বড় কারণ

রাউটার ও ওয়াই-ফাই

ঘরের ভেতরের পথটাই বেশিরভাগ সময় লাইনের চেয়ে সরু হয়ে যায়। ব্যান্ড আর পোর্ট — দুটোই দেখতে হবে।

২.৪ GHz ব্যান্ড বাস্তবে ~90 Mbps
৫ GHz (AC1200) বাস্তবে ~450 Mbps
১০/১০০ পোর্ট সর্বোচ্চ 94 Mbps
গিগাবিট LAN কেবল ~940 Mbps

ওপারের সার্ভার

ফাইলটি যেখান থেকে নামছে, সে-ও একটা সীমা বেঁধে দেয়। আপনার লাইন তখন খালিই পড়ে থাকে।

একটিমাত্র কানেকশন সার্ভার নিজেই ধীর করে রাখে
ফ্রি ফাইল হোস্ট ইচ্ছে করেই গতি কমানো
দেশের বাইরের সার্ভার দূরত্ব বাড়লে গতি কমে
স্পিড টেস্ট কেন বেশি দেখায় একসাথে অনেক কানেকশন খোলে

আপনার ডিভাইস

লাইন আর রাউটার ঠিক থাকলেও ফোন বা ল্যাপটপ নিজেই সীমা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পুরোনো ফোন বা ল্যাপটপ ভেতরের ওয়াই-ফাই চিপই সীমা
সাধারণ হার্ডডিস্ক লেখার গতি কম হলে আটকায়
একসাথে অনেক ডিভাইস লাইন সবার মধ্যে ভাগ হয়
ব্যাকগ্রাউন্ডে আপডেট নিঃশব্দে গতি খেয়ে ফেলে

হিসাব ঠিক হলো কি না বুঝবেন যেভাবে

তিনটি জিনিস মিলে গেলে বুঝবেন আপনার লাইন যা দেওয়ার কথা তাই দিচ্ছে।

  1. ip6.bd খুলে ডাউনলোড ঘরের সংখ্যাটি প্যাকেজের কাছাকাছি আছে কি না দেখুন — ওই সংখ্যাটি Mbps-এ।

  2. সেই সংখ্যাকে ৮ দিয়ে ভাগ করুন, তারপর একটি বড় ফাইল নামিয়ে ডাউনলোড ম্যানেজারের MB/s-এর সাথে মেলান। পার্থক্য ১০–১৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে স্বাভাবিক।

  3. একই পাতায় ping আর bufferbloat গ্রেড দুটোও দেখে নিন — গতি ঠিক থাকা সত্ত্বেও এই দুটো খারাপ হলে ব্রাউজিং আর ভিডিও কলে ধীর লাগে।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

MBps আর MB/s কি একই জিনিস?

হ্যাঁ, দুটোই মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড। লেখার ধরন আলাদা, মানে এক। Mbps-এর সাথে গুলিয়ে যাওয়া এড়াতে বেশিরভাগ সফটওয়্যার MB/s লেখাই পছন্দ করে।

১০০ Mbps লাইনে ১ GB ফাইল নামাতে কত সময় লাগবে?

১০০ ÷ ৮ = 12.5 MB/s। ১ GB মানে প্রায় ১০০০ MB, তাই ১০০০ ÷ ১২.৫ = ৮০ সেকেন্ড। বাস্তবে দেড় থেকে দুই মিনিট ধরে রাখাই ভালো।

আপলোডের বেলায়ও কি একই হিসাব?

হ্যাঁ, হুবহু একই। আপলোড 100 Mbps হলে ফাইল যাবে সর্বোচ্চ 12.5 MB/s গতিতে।

Kbps আর KB/s-এর ক্ষেত্রে কী হবে?

নিয়ম একই, শুধু এককটা ছোট। 800 Kbps ÷ ৮ = 100 KB/s। আর মনে রাখবেন, 1 Mbps = 1000 Kbps।

মোবাইল ডেটা প্যাকের GB-র সাথে এর সম্পর্ক কী?

ডেটা প্যাক মাপা হয় বাইটে — ১ GB মানে প্রায় ১০০০ MB ডেটা। আর গতি মাপা হয় বিটে। ১০০ Mbps গতিতে টানা এক মিনিট ডাউনলোড করলে খরচ হয়ে যাবে প্রায় 750 MB

÷ ৮
Mbps থেকে MB/s বের করার সূত্র
৮ বিট
মিলে হয় মাত্র ১ বাইট
62.5 MB/s
500 Mbps লাইনের সর্বোচ্চ ডাউনলোড

স্পিড টেস্টে প্যাকেজের কাছাকাছি আসে, কিন্তু ডাউনলোড ধীর

এখানে দোষটা লাইনের নয়, ওপারের সার্ভারের। অন্য কোনো বড় সাইট থেকে নামিয়ে দেখুন, কিংবা মাল্টি-কানেকশন ডাউনলোড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। স্পিড টেস্ট একসাথে অনেকগুলো কানেকশন খুলে মাপে, সাধারণ ডাউনলোড খোলে মাত্র একটি।

কেবলে গতি ঠিক, ওয়াই-ফাইতে অর্ধেক

ডিভাইসটি ২.৪ GHz ব্যান্ডে যুক্ত আছে কি না দেখুন — ওই ব্যান্ডে বাস্তব গতি ৯০ Mbps-এর আশেপাশে থেকে যায়। ৫ GHz ব্যান্ডে যুক্ত করুন, আর রাউটার থেকে দূরত্ব ও মাঝের দেয়ালের সংখ্যা কমান।

রাউটার বদলেও ১০০ Mbps পার হচ্ছে না

রাউটার বা ONU-র পোর্ট ১০/১০০ কি না দেখে নিন। এমন পোর্টের সর্বোচ্চ সীমা 94 Mbps-এর কাছাকাছি — ওয়াই-ফাই যত ভালোই হোক, লাইন ওখানেই আটকে যাবে। এর বেশি গতির প্যাকেজে গিগাবিট পোর্ট লাগবেই।

সব ঠিক, তবু ভাগফলের অর্ধেকও পাচ্ছি না

কেবল বদলে, রাউটার একবার রিস্টার্ট দিয়ে আর অন্য একটি ডিভাইসে টেস্ট করে দেখুন। তাতেও একই ফল এলে টেস্টের স্ক্রিনশটসহ আপনার ইন্টারনেট সরবরাহকারীর সাপোর্ট টিমকে জানান।

SN

SaltSync Network Desk

Network Operations · Khulna

খুলনাভিত্তিক ফাইবার ইন্টারনেট সেবাদাতা সল্টসিংকের অফিসিয়াল টেক ব্লগ। রাউটার, নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট নিয়ে আপনার প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানান।

আরও পড়ুন